মোবাইলে ভিডিও এডিট করার ৫ টি সেরা অ্যাপস।

মোবাইলে ভিডিও এডিট করার ৫ টি সেরা অ্যাপস।

আসসালামু আলাইকুম দর্শক। আশা করি সবাই ভাল আছেন। এমন অনেকেই আছেন যারা প্রফেশনাল দের মত ভিডিও এডিট করতে চান।

কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যেমন কম্পিউটার, গ্রাফিক্স কার্ড, ল্যাপটপ ইত্যাদি না থাকার কারণে ইচ্ছাগুলো আর বাস্তবে পরিণত হয় না।

আজকে তাদের কথা মাথায় রেখে এই ব্লগটি সাজানো হয়েছে এখানে উল্লেখ করা হয়েছে এমন পাঁচটি অ্যাপ যা দ্বারা

মোবাইল ফোন দিয়ে সহজেই সুন্দর করে ভিডিও এডিট করা যাবে তাও আবার প্রফেশনাল দের মত।তাই এ সম্পর্কে

যারা জানতে ইচ্ছুক তারা সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়বেন বলে আশা করছি। তাহলে চলুন বেশি কথা না বলে শুরু করা যাক আজকের আর্টিকেলটি।

আমরা আমাদের ফোন দিয়ে যে ভিডিওগুলো করি তা দেখতে অতটা আকর্ষণীয় হয় না। তাই সবারই মন চায় ভিডিওটি

সুন্দর করে এডিট করতে। তবে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ না থাকার কারণে এই ভিডিও গুলো ভালো করে এডিট করা যায় না।

এমতাবস্থায় আমরা বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস ব্যবহার করে থাকি। ফোনের অ্যাপস বলে যে তার কার্যক্ষমতা কম হবে এমনটা না,

তবে অবশ্যই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর মত অত ভালো এডিট হবে না তবে ভিডিও আকর্ষণীয় করার জন্য যথেষ্ট।

মোবাইলে ভিডিও এডিট করার ৫ টি সেরা অ্যাপস।

এখন আমরা জেনে নেব সেই দুর্দান্ত পাঁচটি অ্যাপস সম্পর্কে সেগুলো দ্বারা আপনি আপনার ভিডিও আকর্ষণীয় এবং দুর্দান্ত করে ফেলতে পারবেন।

টপ পাঁচটি ভিডিও এডিটিং অ্যাপের কথা বলতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে নিম্নলিখিত পাঁচটি অ্যাপ।

চলুন এক নজরে দেখে আসা যাক অ্যাপ গুলোর সম্পর্কে

  • Kinemaster
  • Capcut
  • Vllo
  • InShort
  • Vita

এই অ্যাপসগুলো আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে সহজে পেয়ে যাবেন। এই অ্যাপসগুলো দ্বারা আপনি খুব সহজেই

বড় ভিডিও ক্লিপ ছোট করা,ছোট ভিডিও ক্লিপ জোড়া দেওয়া,ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করা, ভিডিওতে ভিজ্যুয়াল গ্রাফিক্স

ব্যবহার করা, ভিডিওতে টেক্সট তথা লেখা এড করা,কালার পরিবর্তন করা বা কালার গ্রেডিং করা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অ্যাড করা

সহ আরো অনেক কাজ করা যায়।এই অ্যাপসগুলো ব্যবহার করে আপনি প্রফেশনালদের মতো ভিডিও এডিট করতে পারবেন।

KineMaster

মোবাইল দিয়ে কোন ভিডিও এডিট করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপস হচ্ছে KinMaster. এই অ্যাপটি দ্বারা আপনি প্রফেশনাল

লেভেলে ভিডিও এডিট করতে পারবেন আপনার হাতের ফোনটি দিয়েই।কম্পিউটারে ভিডিও এডিটিং

সফটওয়্যার দ্বারা যে অভিজ্ঞতা পাবেন এই অ্যাপটি ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি সেভাবে এডিট করতে পারবেন।

অনেক ইউটিউবার আছে যারা কাইনমাস্টার দিয়ে ভিডিও এডিট করে থাকে। এক কথায় এই অ্যাপটি দিয়ে আপনি সকল

ধরনের ভিডিও এডিট করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে অনেক যে দামি ফোন হতে হবে এটা কিন্তু নয় আপনি অল্প

দামে ফোন দিয়েও এই অ্যাপসটির মাধ্যমে ভিডিও এডিট করে ফেলতে পারবেন।

Read More: বাংলাদেশী শ্রমিক এখন রাশিয়ায় !!

CapCut 

CapCut কে একটি প্রফেশনাল ভিডিও এডিটর অ্যাপ হিসেবে ধরা চলে। যারা Tiktok এবং ইউটিউবের জন্য ভিডিও এডিট করতে চান

তাদের জন্য এই অ্যাপটি হতে পারে তালিকার প্রথম।এই অ্যাপটি দ্বারা সহজেই ভিডিওর স্পিড কন্ট্রোল করা যায়।

বিশেষ করে স্লো মোশন ভিডিও তৈরি করার জন্য এই অ্যাপটি যথাযথ।এই অ্যাপটি দ্বারা অন্যান্য ভিডিও এডিটিং

অ্যাপ এর মত সকল ধরনের কাজ করা যায়। তার মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে কালার অ্যাড,ভয়েস এডিট, ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ ইত্যাদি করতে পারবেন।

অ্যাপটি দ্বারা খুব সহজে ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করা যায়।এছাড়াও এই অ্যাপটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্টিকার।

এই অ্যাপটি ব্যবহারের আরো একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে ভিডিওতে স্টবেল করতে পারবেন এই অ্যাপ দ্বারা।

Vllo

অন্যান্য অ্যাপের মতও এই অ্যাপটি দিয়ে কাজ করা অত্যন্ত সহজ। আপনার বিশেষ একটি বিশেষত্ব হচ্ছেএই অ্যাপটি দ্বারা 4k ভিডিও আপলোডিং করা যায়।

অ্যাপস টি তে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার,অনেক ধরনের স্টিকার,টেক্সট অ্যানিমেশন এছাড়াও অন্যান্য

এডিটিং অ্যাপ এর মত নানা রকম সুবিধা পাওয়া যায় এই অ্যাপটি দ্বারা।

InShort

ভিডিও এডিট করার জন্য এই অ্যাপটি অন্যতম। এই এডিটর অ্যাপ দিয়ে আপনি সকল ধরনের ভিডিও এডিট করতে পারবেন।

তবে বিশেষ করে ফেসবুক এবং instagram এর ভিডিও এডিট করতে চান যারা তাদের জন্য এই অ্যাপটি।

এই অ্যাপ টি দ্বারা মাল্টি লেয়ার এর কাজ করা যায়। অ্যাপটিতে এডিটিং কাজ করা খুব সহজ।যারা নতুন এডিটিং এ তারাও

এই অ্যাপটি ব্যবহার করে খুব সহজেই এডিট এর কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। বলছিলাম মাল্টি লেয়ারের কথা। মাল্টিলেয়ার

বলতে একটি ভিডিওর উপর একাধিক ইমেজ বা অন্য এক বা একাধিক ভিডিও বসিয়ে নতুন ভিডিও তৈরি করা। এই কাজটি করার জন্য একটি পারফেক্ট।

এছাড়া অন্যান্য এডিটিং অ্যাপ এর মতো এই অ্যাপটিতে রয়েছে অনেক ধরনের ফিল্টার এবং কালার পরিবর্তনের অপশন।

যেগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই কালার পরিবর্তন করতে পারবেন। অ্যাপটি দ্বারা ভিডিওতে টেক্সট লেখার কাজ

ও সম্পন্ন করা যায়, তাছাড়া ভিডিওতে ভিজুয়াল গ্রাফিক্স ব্যবহার করার সুযোগ তো দিচ্ছেই এই অ্যাপ টি।

মোবাইলে ভিডিও এডিট করার ৫ টি সেরা অ্যাপস।

এই অ্যাপটির একটা সমস্যার দিক হচ্ছে ভিডিও সেভ করার সময় ওয়াটার মার্ক থাকে। এটি সারানোর জন্য রিমুভ অপশনে গিয়ে

৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন দেখলেই ভিডিও থেকে ওয়াটার মার্ক চলে যাবে। আপনারা যদি এড পছন্দ না করেন তাহলে

এই অ্যাপসটি আপনি কিনে ফেলতে পারেন তারপর আর কোন অ্যাড দেখাবে না।

Vita

ভিটা এডিটিং অ্যাপটি পছন্দনীয় হতে পারে যারা শর্ট ভিডিও তৈরি করতে পছন্দ করে। শর্ট ভিডিও বলতে টিকটক ইনস্টাগ্রাম

রিলস ইত্যাদি ভিডিওকে বোঝানো হয়েছে। এই ভিডিওগুলো তৈরি করতে এই অ্যাপটি পারফেক্ট।

এছাড়াও যারা ছবি দিয়ে ভিডিও বানাতে পছন্দ করে তারা এই অ্যাপটি তাদের চয়েজের প্রথম লিস্টে রাখতে পারেন।

অ্যাপস টিতে রয়েছে হাজারো টেমপ্লেট যাতে ছবি সিলেক্ট করে ভিডিও বানানো যায় খুব সহজেই।

এই অ্যাপটি দ্বারা সহজেই প্রফেশনাল দের মত ভিডিও এডিটিং করা সম্ভব। 

এই অ্যাপটি দ্বারা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক,স্টিকার বসানো,বড় ভিডিও কে কেটে ছোট এবং ছোট ভিডিওকে জোড়া

দিয়ে বড় ভিডিওতে পরিণত করা যায়। এছাড়াও এই অ্যাপটি দ্বারা অনেক লেয়ার নিয়ে কাজ করা যায়।

পরিশেষে

আজকে আমরা জানতে পারলাম ভিডিও এডিটিং এর জন্য পাঁচটি এমন অ্যাপ সম্পর্কে যা সত্যিই কার্যকরী।

আশা করা যায় আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে আপনাদের কাছে এই পাঁচটি অ্যাপ সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরতে পেরেছি ।

আপনারা যদি চিন্তা করে থাকেন এই অ্যাপগুলো দ্বারা একদম কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর মত দুর্দান্ত ভিজুয়াল গ্রাফিক্স

দেওয়া যাবে তাহলে আপনারা ভুল ভাবছেন শুধুমাত্র ফোন ইউজারদের কথা চিন্তা করি এটি তৈরি করা হয়েছে।

তবে এগুলো যে ভিডিও এডিটের একদমই অযোগ্য এরকম না এগুলো দিয়ে ভিডিও এডিট করে অনেক

ইউটিউবার প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করছে তাই এগুলো ছোট করে দেখার কোন প্রশ্নই আসে না।

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না।

আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Scroll to Top