Responsive Menu
Add more content here...

মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি।

আসসালামু আলাইকুম দর্শকবৃন্দ। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজকে আমরা জানতে চলেছি সাজেক ভ্যালি সম্পর্কে।

আর্টিকেল মাধ্যমে আমরা সাজেক ভ্যালির অবস্থান, সাজেক ভ্যালি এর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানসমূহ, কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন?

কোথায় খাবেন এ সম্পর্কে জানতে পারবো। আশা করি এ সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়বেন। 

সাজেক ভ্যালি মেঘের রাজ্য।

সাজেক ভ্যালি

সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। সাজেক উপত্যকা বা সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি

জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। এটি রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। এটি এমন

একটা জায়গায় অবস্থিত যার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। বর্তমানে নিরাপত্তার দিক দিয়ে এটি ভ্যালি অনেক উন্নত। সারাবছরই দেশের বিভিন্ন স্থান

থেকে লোকজন সাজেকে ভিড় জমায়। সাজেকে পাহাড়ধস বা রাস্তাধস এরকম কোন ঝুকি নেই। সাজেক দুটি পাহাড়ের

সমন্বয়ে গঠিত। পাহাড় দুটি হলো রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ

থেকে প্রায় ১৭২০ ফুট। আর ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কংলাক পাহাড়-এ কংলাক পাড়া অবস্থিত। সাজেকে বিভিন্ন

ধরনের উপজাতির বসবাস যেমন : লুসাই,পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা ইত্যাদি। সাজেকের কলা ও কমলা বেশ বিখ্যাত। রাঙামাটির

অনেকটা অংশই দেখা যায় সাজেক ভ্যালি থেকে। তাই সাজেক ভ্যালি রাঙ্গামাটির ছাদ হিসেবে পরিচিত।

সাজেক ভ্যালির দর্শনীয় স্থান

সাজেক ভ্যালি জায়গাটিই ছবির মতো সুন্দর। তাই আপনার ছবি তোলার জায়গার অভাব হবে না। ঘোরার মত জায়গা হিসাবে

রুইলুই পাড়া, কংলাক পাড়া, হ্যালিপ্যাড, স্টোন গার্ডেন এবং লুসাই গ্রাম ভ্রমণ করা যাবে। লুসাই গ্রামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পোশাক

পড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে কংলাক পাহাড়। এই পাহাড়ে আরোহন করতে হলে সকালের সময়টা বেছে নেওয়া উত্তম।

See also  গ্রিন ভ্যালি পার্ক  নাটোর। ( Green Valley Park, Natore )

১৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই কংলাক পাহাড়। যেখানে দেখা যায় শুধু মেঘ আর মেঘ। সূর্যের উঁকি দেয়ার দৃশ্য অসাধারন।

শুভ্র মেঘের পিছুপিছু ছুটে যেতে কার না ইচ্ছে করে। মেঘের ভেলায় হারিয়ে যেতে, আকাশের মেঘদের সাথে কথা বলতে চায় না

এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ দূরুহ। কিন্তু কংক্রিটের এই শহরে মেঘেদের নাগাল পাওয়া যায় না। তবে মেঘের রাজ্যে হারিয়ে

যেতে এবং মেঘের ভেলায় ভেসে যেতে চাইলে আমাদের দেশেই রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা একটি স্থান। তার নাম হচ্ছে সাজেক ভ্যালি।

যেখানে আপনি শুধু মেঘের দেখাই পাবেন না বরং প্রকৃতির সকল অপরূপ মহিমার নাগাল পাবেন।  

রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে ভ্যালিটিতে পৌঁছাতে হয়।

তবে রাঙ্গামাটি হয়ে যেতে চাইলে নৌপথে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে কাপ্তাই হয়ে হাঁটাপথে সাজেক পৌঁছাতে হবে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা হয়ে সাজেক যেতে চাইলে এর দূরত্ব হবে ৪৫-৫০ কিলোমিটার।

দীঘিনালা থেকে যাওয়ার পথে আর্মি ক্যাম্প পরে। আর্মি ক্যাম্প অথবা ১০নং বাঘাইহাট পুলিশ ক্যাম্প থেকে সাজেক যাওয়ার অনুমতি নিতে হয়।

সিকাম তৈসা ঝর্ণা

রুইলুই পাড়া থেকে অল্প দূরেই অবস্থিত সাজেক ভ্যালি। তবে সাজেক এবং রুইলুই পাড়ার মাঝে কমলক ঝর্ণা নামে

একটি সুন্দর ঝর্ণা আছে। কমলক ঝর্ণাটি স্থানীয়দের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা কিংবা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামে খ্যাত।

পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ এই ঝর্ণাটি।

সাজেক ভ্যালি মেঘের রাজ্য।

কংলক পাড়া

কংলক পাড়া সাজেকের সবচেয়ে শেষ গ্রাম। এই গ্রামটির প্রধানও লুসাই সম্প্রদায়। বর্তমানে, কংলক পাড়ার প্রধানের নাম

চৌমিংথাই লুসাই। কংলাক পাড়াও সমতলভূমি হতে বেশ উপরে অবস্থিত। তবে এর উচ্চতা মাপা হয়নি আজও। কংলাক

পাড়া সাজেক ভ্যালির শেষপ্রান্তে অবস্থিত বলে এর উপর থেকে ভারতের লুসাই পাহাড়সহ অন্যান্য পাহাড় দেখা যায়।

কংলাক পারা গ্রামের পরপরই বিজিবি ক্যাম্প অবস্থিত। 

See also  ভাওয়াল রাজবাড়ি এবং এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল লুসাই পাহাড় এর কাছাকাছিই অবস্থিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এই জায়গায় রয়েছে প্রকৃতির

এক অপরূপ মায়াবী সৌন্দর্য যা আপনি কখনোই মিস করতে চাইবেন না। ফেরার পথে দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা

বনবিহার এর উপর দিয়ে আসতে হয়। এদের রয়েছে মায়াবী এক ঝর্ণা ও সবুজ গাছগাছালীর মিশ্রণ যা আপনাকে মনে

করিয়ে দেবে আপনি প্রকৃতির খুব কাছাকাছি আছেন। তাই প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যেতে চাইলে এই দু’টি স্থান অবশ্যই ভ্রমণ আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে সাজেক ভ্যালি যেতে চাইলে বিভিন্ন পরিবহনের বাসে করে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত যেতে পারেন। এক্ষেত্রে জনপ্রতি ভাড়া

পড়বে প্রায় ৫২০-৫৫০ টাকা। সরাসরি সাজেক পৌঁছাতে চাইলে দীঘিনালা যাওয়া যেতে পারে শান্তি পরিবহনের মাধ্যমে।

সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে জনপ্রতি প্রায় ৫৮০-৬০০ টাকা করে। এছাড়াও কিছুকিছু এসি এবং ননএসি বাস আছে যা দিয়ে পৌঁছানো যায়।

ভ্রমনকারীরা সংখ্যায় বেশী হলে ঢাকা থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করেও অবিলম্বে যাওয়া যায়। কিংবা বিআরটিসি এবং সেন্টমার্টিন

পরিবহনের কিছু এসি বাসও ভাড়া করে যেতে পারেন। খাগড়াছড়ি কিংবা দীঘিনালায় পৌঁছে সেখানকার কিছু জিপগাড়ী আছে

যা ভাড়া করে সহজেই ঘুরে আসতে পারবেন মেঘের রাজ্য খ্যাত সাজেক ভ্যালি।

এই গাড়িগুলোর স্থানীয়র নাম চান্দের গাড়ি। সকলেই গাড়িগুলোকে এই নামেই চিনে। এই জিপগাড়ি অথবা চাঁন্দের গাড়ি ভাড়া

করে একদিনেই ঘুরে আসতে পারেন । একদিনের বেশী থেকে ঘুরতে চাইলে ভাড়া কিছুটা বেশী লাগে

এই জিপগাড়িগুলোর। ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ এই জিব গাড়িগুলোতে খুব সহজে প্রমাণ করতে পারে।

তবে লোকসংখ্যা যদি কম হয় তাহলে সেক্ষেত্রে সিএনজি অথবা অটো রিক্সা ভাড়া করতে পারেন। সিএনজির ভাড়া তুলনামূলক

একটু বেশী পরে। তাই ইচ্ছা করলেই আপনারা বাস কিংবা মোটরসাইকেল ভাড়া করতে পারবেন। আপাত অবস্থায় মোটরসাইকেল

ভাড়া না করাই ভালো কেননা মোটরসাইকেল পাহাড়ি রাস্তায় খুবই বিপজ্জনক। এই ভ্যালিতে একদিনে ঘুরতে চাইলে অবশ্যই

See also  টাঙ্গাইল জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান বাসুলিয়া

সন্ধ্যার আগে ফিরে আসার চেষ্টা করবেন। কেননা বন্য পরিবেশ হওয়ায় অনেক বিপদ হতে পারে। জদিও এখন অনেক উন্নত হতেছে এলাকাটি তারপর ও আপনারা সতর্ক থাকবেন

কোথায় থাকবেন?

সাজেক ভ্যালিতে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি উন্নতমানের রিসোর্ট রয়েছে। তবে রিসোর্টে থাকতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে বেশ মোটা অংকের টাকা। রিসোর্ট গুলোর নাম উল্লেখ করলে উল্লেখ করা যায়: রিসোর্ট রুংরাং, সাজেক রিসোর্ট, রুন্ময় রিসোর্ট, মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট, ম্যাডভেঞ্চার রিসোর্ট, মেঘ মাচাং, জুম ঘর ইকো রিসোর্ট, লুসাই কাটেজ, আলো রিসোর্ট, আদিবাসী ঘর ইত্যাদি। 

কোথায় খাবেন?

রিসোর্ট, মোটেল কিংবা গেস্ট হাউজে থাকলে সেখানেই উন্নতমানের খাবারের সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়া সেখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে চাইলে পানখাই পাড়া নামক স্থানে যেতে হবে। এর পাশেই রয়েছে নিউজিল্যান্ড পাড়া। তাই সেখানে খেতে গেলে এই স্থানটিও ঘুরে আসা যায় খুব সহজেই। তাছাড়া আদিবাসীদের সাথে বসে তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নেওয়া যায় রুইলুই ও কংলক পাড়ায় গিয়ে। সেখানে আগে থেকে তাদের বলে দিলে তারাই আপনাকে তৈরি করে দিবে আপনার চাহিদামতো খাবার।

সাজেক ভ্যালিতে চোখে পরে মেঘের সাদার সাথে অরণ্যের সবুজের এক অপরূপ প্রকৃতির মিলন। তিনটি হেলিপ্যাড আছে বিদায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপরূপ সব সৌন্দর্য খুব সহজেই দেখা যায়। ঠিক এইরকমই সাজেক ভ্যালির আবহাওয়া। কখনও গরম আবার কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টি। এই বৃষ্টির পরপরই আবার একরাশ মেঘের দল সাজেককে বানিয়ে দেয় সাদা উপত্যকা। তুলোর মত উড়তে থাকে সাদা সাদা মেঘ। যারা এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তাদের অবশ্যই সাজেক ভ্যালি একবার ভ্রমণ করে আসা দরকার।

পরিশেষে

আজকে আমরা জানতে পারলাম সাজেক ভ্যালি সম্পর্কে বিস্তারিত। এ সম্পর্কে আপনাদের মনে আরো কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে পারেন। আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top