Responsive Menu
Add more content here...

ফ্যান্টাসি কিংডম।

আসসালামু আলাইকুম দর্শক। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আজকে আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি ফ্যান্টাসি  কিংডম থিম পার্ক সম্পর্কে।

এছাড়াও আজকের এই আর্টিকেলটিতে থাকছে ফ্যান্টাসি কিংডম পার্কের প্রবেশ টিকিটের মূল্য, বিভিন্ন রাইড, পার্কের খোলা ও বন্ধের সময়সূচি,

কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এবং কোথায় খাবেন এর সব বিষয় সম্পর্কে সবিস্তার বিবরণী। আশা করি এ সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি

পড়বেন। চলুন কথা না বাড়িয়ে তাহলে শুরু করা যাক।

ফ্যান্টাসি কিংডম

ফ্যান্টাসি কিংডম

আপনি পার্কে প্রবেশ করার সাথে সাথে পৌরাণিক প্রাণী চিত্রিত করা সুউচ্চ একটি ড্রাগন এবং জটিল খোদাই দ্বারা সজ্জিত একটি বিশাল প্রবেশদ্বার

দ্বারা আপনাকে স্বাগত জানাবে। সমস্ত বয়সের দর্শকদের কাছ থেকে প্রত্যাশা এবং হাসির শব্দে বাতাস ভরা একটি এলাকা দেখতে পারবেন ।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সর্বাধিক পরিদর্শিত থিম পার্ক হ্যালো ফ্যান্টাসি কিংডম। যার গর বার্ষিক উপস্থিতি প্রায় ছয় কোটি। ফ্যান্টাসি কিংডম থিম

পার্কটি ঢাকায় অবস্থিত। রাজধানী ঢাকার অনতিদূরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় এই পার্কটির অবস্থান। পার্কটি প্রায় ২০ একর জায়গা জুড়ে

নির্মাণ করা হয়েছে। এই থিম পার্কটিকে বাংলাদেশের ডিজনিল্যান্ড বলে অভিহিত করলে ভুল হবে না। এই পার্কটিতে রয়েছে আধুনিক সব রাইডের ব্যবস্থা। 

এদের মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য রাইড হলো : রোলার কোস্টার, শান্তা মারিয়া এবং ম্যাজিক কার্পেট সহ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় রাইড।

রাইড গুলোর মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওয়াটার কিংডম। মজার মজার ১১ টি রাইড সহ রয়েছে বেড়ানোর অনেক জায়গা।

এছাড়াও রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্র সৈকত ওয়েবপুল, বিশাল উঁচু জায়গা থেকে আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে পুলে পড়ার জন্য ওয়াটার স্লাইড, টিউব স্লাইড।

এ ছাড়া লেজি রিভার, ওয়াটার ফল, ডুম স্লাইড, লস্ট কিংডম, প্লে জোন, ড্যান্সিং জোনের মতো অনেক মজার রাইড আছে এখানে।

See also  বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শাড়ি কাপড়ের হাট। করটিয়া হাট।

যাঁরা যাদুর স্বাদ পেতে চান তাদের জন্য ফেয়ারি গার্ডেন হল একটি বাধ্যতামূলক রাইড।

ফ্যান্টাসি কিংডম থিম পার্কটিতে বিভিন্ন দিবস যেমন: পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস ইত্যাদি বিশেষ দিনে কনসার্টের

আয়োজন করা হয়ে থাকে। পার্কটি আন্তর্জাতিক মানের বিনোদন কেন্দ্র হওয়ায় সকলের কাছে ধীরে ধীরে পরিচিতি লাভ করছে।

বিশেষ করে স্কুল ওকলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফ্যান্টাসি কিংডম একটি অন্যতম উচ্ছ্বাস।

ফ্যান্টাসি কিংডমের প্রবেশ টিকিটের মূল্য

বর্তমানে ফ্যান্টাসি কিংডম এই পার্ক এ প্রবেশের বিভিন্ন প্যাকেজ চালু রয়েছে নিচে এ সম্পর্কে তথ্য দেয়া হল

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পার্কটিতে প্রবেশের মূল্য ৪০০ টাকা

বাচ্চাদের জন্য প্রবেশ টিকিটের মূল্য 300 টাকা

আটটি রাইডের প্যাকেজ সহ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৮০০ টাকা এবং একই প্যাকেজ বাচ্চাদের জন্য ৬০০ টাকা

ওয়াটার কিংডম: আপনারা যদি ওয়াটার কিংডম এর রাইড নিতে চান তাহলে জেনে নিন প্রবেশ টিকিটসহ সকল রাইডের প্যাকেজটির প্রাইস ৮০০ টাকা

কম্বো প্যাকেজ: কম্বো প্যাকেজ এর প্রাইজ জন প্রতি ১৫০০ টাকা। কম্বো প্যাকেজটির মধ্যে থাকছে ফ্যান্টাসি কিংডম এ প্রবেশ,

ওয়াটার কিংডম এ প্রবেশ, সকল রাইড এবং তার সাথে লাঞ্চ অথবা ডিনার

ফ্যামিলি প্যাকেজ (চার জন): এই প্যাকেজটির মূল্য ৪০০০ টাকা। প্যাকেজটিতে থাকছে ফ্যান্টাসি কিংডম এ প্রবেশ,

ওয়াটার কিংডম এ প্রবেশ, আনলিমিটেড সকল রাইড এবং তার সাথে লাঞ্চ অথবা ডিনার।

বিভিন্ন রাইড

ফ্যান্টাসি কিংডম থিম পার্কে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক মানের রাইড। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাইডগুলো হচ্ছে ওয়াটার

কিংডম, রোলার কোস্টার, ওয়েবপুল, ওয়াটার স্লাইড, টিউব স্লাইড, ডুম স্লাইড, শান্তা মারিয়া, ম্যাজিক কার্পেট, লস্ট কিংডম, প্লে

জোন, ডান্সিং জোন ইত্যাদি। এই মজাদার রাইডগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে উৎসাহিত হয়ে লোকজন এ পার্কটিতে ভিড় জমায়।

See also  মনোমুগ্ধকর বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।

স্কুল এবং কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ আয়োজন

বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ফ্যান্টাসি কিংডম একটি উচ্ছ্বাসের নাম। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই পার্কটিতে রয়েছে হ্যারিটেজ পার্ক।

হেরিটেজ পার্কটি প্রদর্শন করার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলাদেশের অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে। বাংলাদেশের কৃতি

স্তম্ভের প্রতিলিপির দর্শনের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন তথ্য জানতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ছোট গ্রাম পরিদর্শন করার মাধ্যমে হস্তশিল্প

সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।এছাড়াও পার্কটিতে তো বিভিন্ন ধরনের রাইড রয়েছেই। এ রাইটগুলো ছাত্রছাত্রীদের বিশেষভাবে

আকর্ষিত করে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ওয়াটার কিংডম।

খোলা ও বন্ধের সময়সূচী

পার্কটি সপ্তাহের প্রতিদিনই খোলা থাকে। সাধারণ দিন গুলিতে এই পার্কটি সকাল ১১ টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকে

এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ফ্যান্টাসি কিংডম সকাল দশটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে।

কিভাবে যাবেন

মতিঝিল থেকে মঞ্জিল পরিবহন, হুইল লাইন্স ওয়াটার কিংডম মগবাজার, মহাখালি, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর ও আশুলিয়া হয়েযাওয়া যায়।

আর হানিফ মেট্রো সার্ভিস যায় মতিঝিল থেকে ছেড়ে শাহবাগ, শুক্রাবাদ, আসাদগেট, শ্যামলি, গাবতলি, সাভার, নবীনগর হয়ে। 

৪০-৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে পার্কটিতে যাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন

কোন জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার সময় আমাদের মাথায় প্রথমে যে চিন্তাটা আসে সেটা হচ্ছে থাকা নিয়ে।

ফ্যান্টাসি  কিংডমে গেলে সেখানে থাকার জন্য রয়েছে 60 কক্ষ বিশিষ্ট মোটেল আটলান্টিস রিসোর্ট হোটেল।

এক রাত থাকার জন্য ৪৭০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে অনেক সুন্দর রুম পাওয়া যায়।

কোথায় খাবেন

খাওয়া-দাওয়ার জন্য ফ্যান্টাসি কিংডমের ভেতরেই রয়েছে বেশ ভাল মানের রেস্টুরেন্ট। উল্লেখযোগ্য রেস্টুরেন্ট গুলোর

মধ্যে রয়েছে আশুলিয়া ক্যাসেল রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুডের জন্য রয়েছে রোলার কোস্টার স্টেশন এবং ওয়াটার টাওয়ার ক্যাফে।

পরিশেষে

ফ্যান্টাসি কিংডম থিম পার্ক একটি বিনোদন পার্কের চেয়েও বেশি কিছু। এটি কল্পনা এবং সাহসিকতার একটি রাজ্যের প্রবেশদ্বার।

See also  যমুনা ফিউচার পার্ক

আপনি মনের দিক থেকে যুবক বা বুড়ো যাই হোন না কেন, এই মনোমুগ্ধকর রাজ্যে প্রত্যেকের জন্যই কিছু না কিছু আছে।

সুতরাং, আপনার সাহস ধরুন এবং এমন একটি যাত্রা শুরু করুন যা আপনি কখনই ভুলতে পারবেন না, কারণ ফ্যান্টাসি কিংডম

থিম পার্ক আপনাকে এমন একটি জগতে নিয়ে যায় যেখানে স্বপ্নগুলি বাস্তবে পরিণত হয়।

আজকে আমরা জানতে পারলাম ফ্যান্টাসি কিংডম থিম পার্ক তথা ফ্যান্টাসি কিংডম সম্পর্কে। আজকের এই আর্টিকেলটিতে

আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ফ্যান্টাসি কিংডমের প্রবেশের টিকিটের এবং বিভিন্ন প্যাকেজের মূল্য, পার্কটিতে থাকা বিভিন্ন

ধরনের রাইড, খোলা এবং বন্ধের সময়সূচি, কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন ইত্যাদি সম্পর্কে। আর্টিকেলটি পড়ে

ভালো লেগে থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top