চালু হচ্ছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

চালু হচ্ছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে পায়ের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২৬ জুন থেকে চালু হতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজ।

আসসালামু আলাইকুম দর্শক। আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন। বর্তমানে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি অন্যতম আলোচ্য বিষয়।জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তবে বকেয়া বিল পরিশোধের কারণে এবং কয়লা আমদানি করার মধ্য দিয়ে আগামী ২৬ এ জুন থেকে চালু হতে যাচ্ছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। আশা করি এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়বেন।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার পায়রায় নির্মিত একটি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। চীনের চায়না মেশিনারিজ কোম্পানি এবং বাংলাদেশের নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশনকোম্পানি লিমিটেড এর যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ধানখালী গ্রামের ১,০০০ একর জমির উপর নির্মান করা হয়েছে। পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ৬৬০ মেগাওয়াট এর মোট ২ টি ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে যার ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ১২ হাজার টনের বেশি কয়লা পোড়ানোর দরকার পড়ে। ২০২৩ এর মে পর্যন্ত প্রতিদিন এই প্ল্যান্টে ৭০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হত। গত পাঁচই জুন ২০২৩ এ কয়লা সংকটের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়।

চালু হচ্ছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের একটি ঘন জনবসতিপূর্ণ এবং নাতিশীতোস্কো অঞ্চল। তবে এ বছরের উত্তাপ অন্যান্য বছরকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

অন্যান্য বছরের গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে 30 থেকে 37 ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, কিন্তু এবার এই

তাপমাত্রা বেড়ে ৪০ ডিগ্রীর উপরে উঠে গেছে যা অসহ্য করে পরিস্থিতি। তাই দেশের জনগণের কাছে এই উত্তপ্ত দিন কাটানো

অনেক কঠিন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছরের লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট এর হার অনেক বেড়ে চলেছে। প্রায়

Read More: তবে কি কমে যাবে পেঁয়াজ এর দাম ??

প্রতিদিনই সারা বাংলাদেশের কোন না কোন জায়গায় লোডশেডিং হয়েই থাকে কোথাও কোথাও সারাদিনই লোডশেডিং হয়ে

থাকে যা অত্যন্ত বিরক্তিকর একটা মুহূর্ত। আবার কখনো কখনো সারারাতই বিদ্যুতের কোন নাম গন্ধ থাকে না। এর মধ্যে

প্রসঙ্গ যখন ওঠে বিদ্যুতের কথা তখন অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের বিদ্যুৎ সংকটের কথা উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে

আমরা উল্লেখ করতে পারি পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা। যা বর্তমানে কয়লা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। এ বিদ্যুৎ

কেন্দ্রটি দেশের প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম ছিল। কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে যার

বর্তমান অবস্থা এখন বন্ধ। তবে দেশবাসীর জন্য সুখবর হিসেবে বলা যায় আগামী ২৬ শে জুন থেকে শুরু হতে পারে বিদ্যুৎ

উৎপাদন। এই খবরটি স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে দেশবাসীর কাছে বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের কাছে।

বিদ্যুৎ না থাকার প্রভাব

কয়লা সংকটের পর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চল সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এর প্রভাব পড়েছে।

অসহনীয় গরম এবং বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দেশের মানুষের অবস্থা করুন। এই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকের জনজীবনে

হুমকির মুখে পড়েছে তারা তাদের কাজ ভালোভাবে করতে পারছে না। আবার অনেক বড় বড় ফ্যাক্টরি তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য

উৎপাদন করতে পারছে না যা অর্থনীতিতে অনেক ক্ষতি হতে পারে এ সম্ভাবনা করছেন অনেক বিশ্লেষণগন । তবে এর মধ্যে কিছুটা

আশার আলো দেখা যাচ্ছে। কয়লা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র । কয়লা সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ

ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকার ১০০ বিলিয়ন ডলার সংস্থান করে দেওয়ার পরই এলসি খুলে দেওয়া হয়। 

কয়লা কবে আসবে ?
চালু হচ্ছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

কেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী ১১, ১২ জুনের মধ্যেই ইন্দোনেশিয়াতে কয়লা লোড হবে।

২৩ থেকে ২৫ জুনের মধ্যেই কয়লাবাহী জাহাজ আসবে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য মতে

সবকিছু ধারাবাহিকভাবে চললে ২৬ জুন থেকে উৎপাদন কাজ শুরু করা যাবে। আশা করা যাচ্ছে ২৫ জুনের

পর দেশে যে কয়লা আসবে তা দিয়ে দেড় থেকে দুই মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে জনজীবন

আবার স্বাভাবিক হতে পারে। সরকার যে কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে তার মধ্য দিয়ে বলা যায় দ্বিতীয়বার এই বিদ্যুৎ

কেন্দ্রটি আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল এর অভাবে বন্ধ হবে না।

চীন এবং বাংলাদেশের তৈরি হয় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির, কয়লা আমদানির জন্য চীন এর অংশীদার সিএমসি

ঋণ দেয় বাংলাদেশকে। এই বছরের এপ্রিল মাস অব্দি বকেয়া বিল হয়েছিল ৩৯০ বিলিয়ন ডলার। এই সি এম সি কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বকেয়া বিলের কারণে।

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের রয়েছে দুইটি ইউনিট। দুইটি ইউনিট মিলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা

১৩২০ মেগাওয়াট। আর এ বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টন কয়লার প্রয়োজন পড়ে। 

পরিশেষে

আজকে আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পারলাম পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কারণ এবং এটি আবারো

চালু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ। পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কারণে ভোগান্তিকর সময় কাটাচ্ছে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ।

সরকারের কর্মতৎপরতার বকেয়া বিল প্রদানের ফলে আবার শুরু হতে যাচ্ছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। আশা করা যায় এই আর্টিকেলটির

মাধ্যমে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের খবর সম্পর্কে অবগত করতে পেরেছি। তাছাড়া এই আর্টিকেলে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশে কবে

কয়লা আসতে পারে কবে চালু হতে পারে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি , আশা করা যাচ্ছে 26 তারিখ থেকে মানুষের জনজীবন আবারও

স্বাভাবিক হতে পারে। যখন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র টি চালু করা হবে তখন থেকেই আশা করা যাচ্ছে বাংলাদেশ আগের মত স্বাভাবিক

হয়ে উঠবে। বর্তমানে সবার একটাই দোয়া যেন তারা ভালোভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে পারে। আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে

কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। এবং অন্য আরেকজনকে এটি শেয়ার করার মাধ্যমে তাকে এ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করুন।

আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Scroll to Top