Responsive Menu
Add more content here...

ফিলিস্তিনের উপর বর্বরতার বিরুদ্ধে কিছু কবিতা

ফিলিস্তিনের উপর বর্বরতার বিরুদ্ধে কিছু কবিতা

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শকবৃন্দ। আশা করি সবাই ভাল আছেন। ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রায় সবাই অবগত। আজকে এই লেখাটার মাধ্যমে আমি আপনাদের মাঝে ফিলিস্তিনের উপর বর্বরতার বিরুদ্ধে কিছু কবিতা তুলে ধরার চেষ্টা করব। এই কবিতাগুলো আপনারা ফেসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করতে পারবেন। চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক আজকের লেখাটি

war

1. কবিতার নাম: শুধু একটি বন্দুক চাই

কবি: নাজার কাবানি

শুধুমাত্র একটি বন্দুক চাই

আমার মায়ের সোনার নোলক বিক্রি করে দিয়েছি শুধু

একটি বন্দুকের জন্য

আমার ক্লাসের পাঠ্য-পুস্তক সব বন্ধক রেখেছি শুধু

একটি বন্দুকের জন্য

যে ভাষায় আমরা ক্লাস করতাম, যে পাঠ্য আমরা পাঠ করতাম

যে সকল কবিতা মুখস্থ করতাম

সেগুলো সব মিলে এক টাকার সমান হচ্ছে না একটিমাত্র বন্দুকের সামনে

এখন আমি কেবল বন্দুক চাই

নিয়ে চলো তোমাদের সাথে আমাকেও ফিলিস্তিনে

নিয়ে চলো আমার রবের কাছে

বিমর্ষ ও বাদানুবাদমুখর চেহারায় উপস্থিত হব সেখানে

হে বিপ্লব

চলো ফিলিস্তিনে

চলো হেবরনে,বাইসানে

আরও চলো যাই আগওয়ারে,বেথেলহেমে

এবং তোমরা যেখানেই আছ

হে পরাধীনতার শৃঙ্খল ছেঁড়া মরদের দল

এগিয়ে যাও, সামনে এগিয়ে যাও

শান্তিচুক্তির গল্প আজ অসহনীয় প্রহসন

সাম্যনীতির কিসসা-কাহিনী চরম উপহাস

ফিলিস্তিনে আজ পথ একটিই- বন্দুকের সাথে আত্মবিসর্জন।

2. কবিতার নাম: কুদসে

কবি: মাহমুদ দারবিশ

আমি স্মৃতিহীন, আল কুদসে তার প্রাচীন বাউন্ডারির মধ্যে ।

প‌রিভ্রমণ ক‌রি যুগের পর যুগ

আমার বুকে বন্দুক তাক করছো?

অথচ এখানে নবী রাসুলরা বিলি করতেন পবিত্রতার ইতিহাস

See also  বাংলাদেশে কোরবানির সর্বশেষ খবর।

যাঁরা আকাশ থেকে ফিরেছিলেন বেদনা ও উপেক্ষার সঙ্গী হয়ে

ভালোবাসা আর পরম শান্তি, পবিত্র শব্দদুটির অভিমুখ এই শহরের বুকে;

ঢালু ভূমিতে হাঁটছি, আর আমার ত্রস্ত্র হৃদয় নিশ্চুপ বলছে—

তাওরাতে সুস্পষ্ট বাক্য থাকার পরও বর্ণনাকারীরা মতবিরোধ করল?

কেন মুখ ফসকে ‘অনুজ্জ্বল পাথরের’ বদলে ‘যুদ্ধ’ বলে দিল? কেন?

স্বপ্নালোক ভ্রমণ শেষে তীব্র বেগে চোখ খুলে দেখি

সামনে-পেছনে কেউ নাই, কিছু নাই

তাই এখন এই আলো সব আমার। যেখানে আমি হাঁটি আর হালকা হই

এবং উ‌ড়ি যে কোনো মুহূর্তে। তারপর প্রকাশ্যে পরিবর্তিত হই।

সদ্য ফোটা ফুলের মতো ভবিষ্যদ্বাণী,

সুনেছি  নবির মুখের বানী-‘যদি তোমরা ইমান না আন, তবে নিরাপত্তা পাবে না কখনো!’

আমি হাঁটি, যেন আমি ছাড়া অন্যজন, আমার ক্ষত যেন ফুটন্ত গোলাপ

শাদা বাইবেলের মতোন।

More

৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি

একাকিত্ব নিয়ে ফেসবুক ক্যাপশন কবিতা উক্তি এবং স্ট্যাটাস

মালয়েশিয়ায় সেরা কয়েকটি শ্রমিক ভিসা এর সুযোগ সুবিধা এবং বেতন

সুইডেনে কাজের ভিসা ও বেতন ২০২৩

অনলাইনে পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন। আবেদন ফি কত?

হাতগুলো আমার নিষ্পাপ দুটি কবুতরের মত

যারা ক্রুশের অনেক উপরে ওড়ে বহন করে পৃথিবী।

এখন আমি আর হাঁটি না, আকাশে উড়ি আর পরিবর্তিত হই।

আমার কোনো সময় নেই এবং নেই কোনো প্রান্তর ও এর প্রভাব।

তাহলে আমি কে? আমি ‘আমি না’ যেন অন্য কেউ।

তবে একাকী চিন্তা করি, আমার প্রিয় নবি (হযরত মুহাম্মদ সা. )বলতেন বিশুদ্ধ আরবি।

তারপর, তারপর কী হলো?

একজন সৈন্য চিৎকার দিল,

তুই কি আরেকজন? একটু আগে না বন্দুকের গুলিতে মারলাম!

তাকে আমি বলি, আমাকেই মেরেছ তুমি… আমি সব ভুলে যাই,

ঠিক তোমারই মতোন। যেন দেখা পাই আবার, শান্ত মৃত্যুর, জনম জনম।

**কবি পরিচিতি: মাহমুদ দারবিশ

মাহমুদ দারবিশ ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি।তিনি ‘ফিলিস্তিনের প্রেমিক’ নামে প্রসিদ্ধ। প্রতীকাশ্রয়ী আরবি কবিতার অন্যতম সৃজক এই কবি। তার অসংখ্য কবিতা অগণিত মানুষের হৃদয় জয় করেছে। মাহমুদ দারবিশ ১৯৪২ সালে ফিলিস্তিনের গ্যালিলি প্রদেশের আল-বিরওয়াহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে ইজরাইলি আক্রমণে মাত্র ছয় বছর বয়সে সপরিবারে গভীর রাতে লেবাননে রওয়ানা করেন। সেখান থেকেই শুরু তার উদ্বাস্তু জীবন। আমৃত্যু কোথাও স্থির হতে পারেননি। কখনো মিশরে, কখনো বৈরুতে, কখনো প্যারিসে। আবার কখনো খোদ প্যালেস্টাইনে, নিজভূমে পরবাসী হয়ে। ৯ আগস্ট ২০০৮ সালে আমেরিকার হেরমান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ওপেনহার্ট সার্জারির সময় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

See also  টাইটান ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার কারণ।

3. কবিতার নাম: অনুভব করি

কবি: সামিহ আল-কাসিম

অনুভব করি, আমরা মারা যাচ্ছি

কেননা আমরা যুদ্ধ জানি না

তাই ফিরে আসি ডন কিহোতিতে

আর আক্ষেপ করি পুরুষদের উপর!

4. কবিতার নাম: প্রসারিত হাত

কবি: মুরিদ বারগুসি

ছোট্ট বালিকা, ধূলিমলিন, নগ্নপদ,

মাটিতে বসে আছে।

সারি সারি তাবুগুলো তার পাশে

যেন জীর্ণ হতে ধরেছে।

সম্মুখে তার রাখা আছে

অনেক পুরনো এক থালা

যা দিয়েছে তাকে,

কোনো এক সকালে

বিখ্যাত ত্রাণ সংস্থা।

নাকে তার লেগে আছে স্যুপ

আর একাতে হাতে রুটি অবশিষ্ট

ভিনদেশি ফটোগ্রাফার চট করে নিল তার

ছবি এক উৎকৃষ্ট।

যাতে পষ্ট হবে শরণার্থী শিবির

এবং দাউদাউ ক্ষুধা

তারপর সম্পাদক খুশি হবেন আচানক

বললেন, একি আহা!

তিন বছর আগে

তার পরিবার গেছে এই সমুদ্রতলে

এখন সে হাত পাতে

কোনোকিছু না পেয়ে

মতলবি সাংবাদিকের কাছে।

যেন ইশারায় সে বলে-

বাসি এক রুটিতে

সকাল ও সন্ধ্যা তার

কেটে যাবে নিমিষে।

পরিশেষে:

আশা করা যায় কবিতা গুলো আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। কবিতা গুলো ভালো লেগে থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top