আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে স্ট্যাটাস উক্তি এবং কিছু কথা
আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে স্ট্যাটাস উক্তি এবং কিছু কথা প্রিয় পাঠক সকলকে আসসালামু ওয়ালাইকুম। আজকের এই পোস্টটিতে আপনাদের মাঝে আল্লাহ তাআলাকে নিয়ে কিছু স্ট্যাটাস ও উক্তি তুলে ধরতে যাচ্ছি। প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী এবং আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা অত্যাবশক। কারণ তিনি আমাদের সকলের মালিক, তিনিই আমাদের সৃষ্টিকর্তা। আজকের এই পোস্টটিতে আল্লাহ তাআলা কে নিয়ে আরও কিছু কথা শেয়ার করতে যাচ্ছি আজকের এই পোস্টটিতে। আপনারা সম্পূর্ণ পোস্টটি ভালোভাবে পড়ে নিন।
প্রাণপ্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা অনেকেই আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে স্ট্যাটাস, উক্তি, কিছু কথা ইত্যাদি লিখে গুগলে সার্চ করে থাকে। তাই যারা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে স্ট্যাটাস, উক্তি পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের আজকের সম্পূর্ণ পোস্টটি ভালোভাবে শেষ পর্যন্ত পড়ে নিন। এই পোস্টটি তে আমরা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে কিছু স্ট্যাটাস ও কিছু উক্তি তুলে ধরেছি এবং আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে কিছু কথা শেয়ার করেছি। চলুন কথা না বাড়িয়ে পোস্টটি শুরু করা যাক

আল্লাহ তাআলাকে নিয়ে স্ট্যাটাস
১. আল্লাহ সকলকে তার নির্দিষ্ট সময়ে মৃত্যু দান করেন। তার হুকুম ব্যতীত কেহই মৃত্যুবরণ করতে পারেনা।
_আল-কোরআন
২. ভোজন কর এবং পান কর, কিন্তু অপচয় করোনা কখনো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।
_আল-কোরআন
৩. আল্লাহই মুসলমানদের বন্ধু এবং সঙ্গী। তিনি তাহাদের অন্ধকার থেকে বার করে আলোতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।
_আল-কোরআন
৪. ছোট ছোট গ্রহ গুলি যেমন সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান পায়, ঠিক তেমনি ছোট ছোট শিশুরাও আল্লাহর কাছাকাছি অবস্থান পায়।
_রিচটার
৫. যারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও পরোপকার করে, আল্লাহ সর্বদা তাদের সঙ্গে থাকেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করেন।
_আল-কোরআন
৬. মানুষ ইচ্ছা করে ছোট ও দরিদ্র হয়। তার ছোট ও দরিদ্র হবার কোন কথা না। শুধু সহিষ্ণু এবং সত পরিশ্রম চাই। জয়ের জন্য শুধু আল্লাহর দিকে চেয়ে থেকো না। তোমার বাহুতে যে শক্তি আছে, তোমার মাথায় যে বুদ্ধি আছে তার যথাপোযুক্ত ব্যবহার তুমি করো।
_ডাঃ লুৎফর রহমান
৭. মানুষ মাত্রেই আল্লাহর সৈনিক। অসুন্দর পৃথিবীকে সুন্দর করতে সর্ব নির্যাতন, সর্ব অশান্তি থেকে মুক্ত করতেই হয়েছে মানুষের জন্ম।
_কাজী নজরুল ইসলাম
৮. ক্রোধ প্রদর্শন করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি উহা দমন করিয়া রাখো তবে আল্লাহ তাআলা এজন্য তোমাকে অবশ্যই পুরস্কৃত করিবেন।
_আল হাদিস
আরওঃ
স্মৃতি নিয়ে সেরা ৫০ টি ফেসবুক স্ট্যাটাস ও ক্যাপশন
বাইক এক্সিডেন্ট নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস ক্যাপশন এবং কিছু উক্তি
জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তা স্ট্যাটাস ক্যাপশন উক্তি এবং কবিতা
ইসলামিক স্ট্যাটাস ক্যাপশন এবং উক্তি
শীতকাল নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস ক্যাপশন উক্তি এবং কবিতা
অর্থসহ শিশুদের সুন্দর ইসলামিক কিছু নাম সমূহ
আল্লাহ তাআলাকে নিয়ে উক্তি
১. যে বিপদে ধৈর্য ধারণ করার মানসিকতা রাখে আল্লাহ তাকে উত্তম রূপে পুরস্কৃত করেন।
_আল-কোরআন
২. যদি তোমরা অন্যের অপরাধ ক্ষমা করতে না পারো, তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা পাবার আশা কখনোই করোনা।
_হযরত ঈসা ( আঃ)
৩. দেশ শাসনভার আল্লাহ তাআলার নিকট হইতে একটি আমানত।
_আল হাদিস
৪. আল্লাহর পথে সংগ্রামরত একটি সকাল অথবা একটি সন্ধ্যা দুনিয়া এবং এখানকার সকল সম্পদ অপেক্ষা অনেক অনেক বেশি মর্যাদাজনক।
_তিরমিযি
৫. যে মানুষকে ভয় করে সে আল্লাহকে ভয় করে না।
– হযরত ( আঃ) কাদের জিলানী ( রাঃ)
৬. আল্লাহ তায়ালা বিচারকদের পক্ষে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে অন্যায় বিচার না করে, যখন সে অন্যায় বিচার করে তখন আল্লাহ তার সঙ্গ ছেড়ে দেন এবং শয়তান তার সঙ্গী হয়।
_আল হাদিস
৭. যে ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া আঘাতকারীকে ক্ষমা করে দেয়, আল্লাহ তাহার সম্মান বৃদ্ধি করিবেন এবং তাহার পাপ মার্জনা করিবেন।
_আল হাদিস
৮. আল্লাহ ব্যতীত কেউ জ্ঞানী নয়।
_পাইথাগোরাস
আল্লাহর উপর ভরসা নিয়ে উক্তি
আল্লাহর উপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল মুসলমানদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা দুঃসময়ে ধৈর্য ও শান্তি এনে দেয়। এই বিশ্বাস থেকে মানুষ বুঝতে পারে—জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তেও একজন করুণাময় স্রষ্টা সবকিছুর দেখভাল করছেন। আল্লাহর উপর ভরসা নিয়ে উক্তি আমাদের সেই গভীর আস্থা ও নির্ভরতার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভর করে। এই উক্তিগুলো শুধু ধর্মীয় উপদেশ নয়, বরং বাস্তব জীবনে মানসিক শক্তির এক উৎস হিসেবে কাজ করে। সঠিক দিকনির্দেশনা, ভরসা, ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের গুরুত্ব বুঝতে চাইলে এসব উক্তি এক মূল্যবান সম্পদ।
তোমরা যদি আল্লাহর দিকে ফিরে যাও এবং তাঁর দিকে নিজেদের মনোযোগ নিবদ্ধ করো, তবে আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন। -সূরা আত-তাওবা, আয়াত ৪০।
যে আল্লাহর উপর ভরসা করবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন। -সূরা আল-তালাক, আয়াত ৩।
অবিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহ কোনও সাহায্যকারী রাখেন না, তবে যারা ঈমান আনে এবং তাদের কাজে আল্লাহর উপর ভরসা রাখে, তারা পাবে। -সূরা আহলুল-বাক্বারা, আয়াত ২৪৯।
যা কিছু তোমার জন্য ভালো, আল্লাহ তোমাকে ঠিক তা-ই দিবেন, হয়তো একটু দেরিতে, কিন্তু কখনো ভুল করে না।
যেখানে মানুষের আশাভঙ্গ হয়, সেখানে আল্লাহর রহমত শুরু হয়। তাই সবসময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।
তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যের উপর ভরসা করো না, তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাকো। -সূরা ইউনুস, আয়াত ৮৪।
আল্লাহ যাকে চায়, তাকে অগণিত রিজিক দেন। আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তাকে যথেষ্ট করেন। -সূরা আন-নুর, আয়াত ৩৮।
আল্লাহর উপর ভরসা নিয়ে হাদিস|
আল্লাহর উপর ভরসা নিয়ে হাদিস আমাদের শেখায় কীভাবে একজন মুসলমান পূর্ণ বিশ্বাস ও নির্ভরতার সাথে নিজের জীবন পরিচালনা করবে। ইসলামে তাওয়াক্কুল বা ভরসা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ, যা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর হাদিসে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। “আল্লাহর উপর ভরসা নিয়ে হাদিস” গুলোতে দেখা যায়, রাসূল (সা.) নিজে সব সময় আল্লাহর উপর আস্থা রেখেছেন এবং সাহাবাদেরকেও তা করতে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চেষ্টা আমাদের কর্তব্য হলেও ফলাফল একমাত্র আল্লাহর হাতে। যখন মানুষ নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে আল্লাহর উপর নির্ভর করে, তখন সে প্রকৃত ঈমানদার হয়ে ওঠে। এসব হাদিস আমাদের জীবনে ধৈর্য, আশাবাদ ও আধ্যাত্মিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
তোমরা যদি আল্লাহর উপর যথাযথভাবে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের রিযিক ও প্রয়োজনের ব্যবস্থা করবেন, যেমন পাখি সকাল বেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পূর্ণ পেটে ফিরে আসে। -(তিরমিজি)।
আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার উপর ভরসা করে, আমি তাকে সবকিছু দেব, তার সমস্ত প্রয়োজন পূর্ণ করব। -(ইবনু মাজাহ)
আল্লাহ তার বান্দাদের উপকার করতে চান, তবে বান্দা যদি আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখে, তাহলে আল্লাহ তার জন্য সবকিছু ব্যবস্থা করেন। -(আবু দাউদ)
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন এবং তার জন্য যথেষ্ট হন। -(সহীহ বুখারি)
ভরসা করো আল্লাহর উপর, কারণ যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথাযথভাবে ভরসা করো, তিনি তোমাদের পাথরের মতো দৃঢ় করবেন। -(তিরমিজি)
আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে মূল্যবান কিছু কথা
পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করিয়া শেষ করা মানুষের সাধ্য নয়। তিনি ’কুন্’ শব্দের দ্বারা আঠারো হাজার আলম সৃষ্টি করেছেন। মানব এবং ঋণজাতি একত্র হইয়াও যদি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা বাণী লিখিতে চায় এবং সমস্ত গাছপালা কলম ও সমুদ্রের পানি কালী রূপে ব্যবহার করে, তবুও তাহার গুণাবলী লিখিয়া শেষ করা সম্ভব হবে না।
যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই আমরা আল্লাহ তাআলার মহান অস্তিত্বের দেদীপ্যমান প্রমাণ স্বচক্ষে দেখিতে পাই। তিনি হলেন লা শরীক। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাহার কেউ অংশীদার নেই। অন্য কারো নিকট হইতে তাহার কিছুই চাহিতে হয় না। তিনি সামাদ বা অভাবমুক্ত। তিনি কাহারো ঔরসজাত নন এবং তিনি কাহাকেও জন্ম দেন নাই। তাহার সমতুল্য আর কেহই নেই। তিনি সকলের খাদ্য সরবরাহ কারী। তিনিই সমস্ত সৃষ্টির একমাত্র মালিক। তাহার ইচ্ছাক্রমেই একদিন এই বিশ্ব সংসার ধ্বংস হইবে। তিনি হলেন অমর। তিনি সকলের প্রভু এবং প্রতিপালক।
মানুষকে আল্লাহ তাআলার এবাদতের জন্যই সৃষ্টি হইয়াছে। আল্লাহ ইসলামকে মানুষের জন্য জীবন বিধান রূপে মনোনীত করিয়াছেন। মানুষই তাহার সৃষ্ট জীবের মধ্যে সর্বোত্তম তথা সর্বশ্রেষ্ঠ। এই জন্যই মানবজাতি আশরাফুল মাখলুকাত নামে বহুল পরিচিত। কাজেই করুণাময় আল্লাহ তায়ালার এবাদত করা প্রত্যেক মানুষের একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ তাআলার এবাদত করলেই আমরা পরকালে সর্ব শান্তির স্থান জান্নাত লাভ করতে পারব। তাই আমরা সকলেই বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করব।
শেষ কথা
আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে স্ট্যাটাস উক্তি এবং কিছু কথা সম্মানিত পাঠক আমাদের সাইটটি ভিজিট করার জন্য জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। আজকের এই পোস্টটিতে আমরা আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে কিছু উক্তি, স্ট্যাটাস ও কিছু কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনারা এই পোস্টটি থেকে আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পেরেছেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকের এই পোস্টটি শেষ করলাম।


